| |

বছরজুড়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের কাজ

সৌমিন খেলন : কে পরিবার নিয়ে না খেয়ে আছেন। অর্থের অভাবে কে করাতে পারছেন না কোনো চিকিৎসা। ঘরের অভাবে খোলা আকাশের নিচে কারা কাটাচ্ছেন রাতদিন। কনকনে শীতে রেলস্টেশন বা বস্তিতে কারা হয়ে আছেন শীতে জবুথবু।
সমাজের অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত দুঃখী এসব মানুষের দুঃখ লাঘব করে দিয়ে মুখে হাসি ফোটানোই যাদের কাজ। স্বেচ্ছাসেবী নির্মোহ কর্মচঞ্চল একঝাঁক তরুণ-তরুণী।
মানবসেবায় যারা ছুটে চলে দিগন্ত। শরীরের রক্ত দিতেও হয় না তারা পিছপা। রাতবিরেতে ছুটে গিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচায় তারা মানুষের প্রাণ। আছে তাদের সুপরিচিত এক সংগঠন ‘রক্তদানে নেত্রকোনা’।
সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যই ছাত্র-ছাত্রী। করছেন তাদের কেউ অনার্স আর কেউ বা মাস্টার্স। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজ করে নিজের উপার্জিত এবং বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা অর্থ ২০১৭ সাল থেকে ব্যয় করছে তারা সমাজের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে।
সম্প্রতি রক্তদানে নেত্রকোনার ব্যনারে বছরের শুরুতেই সদরের বাংলা ইউনিয়নের রায়দুম রোহী এলাকায় ফয়জুল উলুম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের দিয়েছে তারা কম্বল। এরসাথে কোরান খতম ও পড়ানো হয়েছে দেশ ও রাষ্ট্রের মঙ্গল কামনায় দোয়া।
সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুল হাসান জনি
সাধারণ সম্পাদক শেখ অলি আহমেদ রনি
ও সদস্য রোদ্রসহ উপস্থিত থেকে এই আয়োজন সম্পন্ন করেন। তারা জানিয়েছেন, মানবসেবা হচ্ছে বড় ধর্ম। মানুষকে ভালোবাসা, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার চেয়ে সুখকর তাদের কাছে আর কোনোকিছু মনে হয় না।
জীবন অনেক বড় আবার সেকেন্ডের নেই কোনো ভরসা। জগৎসংসারের নিঃশ্বাসের এই যে দোলাচল, এরমধ্যে থেকেও তবে কেন মানবসেবার মতো মহৎ কাজ থেকে মানুষ পিছিয়ে থাকবে প্রশ্ন রাখেন সভাপতি জনি।
তিনি বলেন, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানুষের পাশে থাকতে চাই। সুঃখের না হোক অন্তত দুঃখের সাথী হয়ে।