| |

জামালপুরে যৌতুকের বলি হলেন স্কুলছাত্রী সীমা

ইসলামপুর প্রতিনিধি ঃ ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের পশ্চিম বামনা গ্রামে স্বামী সোহেল রানার দাবীকৃত দশ লাখ টাকার যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্কুলছাত্রী সীমা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার শ্বশুর বাড়ীতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেছে।
ইসলামপুরের চিনাডুলি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নিদেনু মন্ডল ও নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানাগেছে, আজ থেকে এক বছর আগে ইসলামপুরের সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের কন্যা সীমা বেগম সাপধরী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছিল। ওই সময় একই উপজেলার পশ্চিম বামনা গ্রামের বিরেমারাবন এলাকার ছাইদুর রহমান ফারাজির পুত্র সোহেল রানা স্কুলছাত্রী সীমা বেগম এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই প্রেমের ঘটনা জানাজানি হলে আজ থেকে সাত মাস আগে সীমার পরিবারের সদস্যদের চাপে সোহেল রানা স্কুলছাত্রী সীমাকে প্রথমে জামালপুর নোটারী পাবলিক এফিডেফিট এর মাধ্যমে এবং পরে ১৮ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করত: রেজিষ্ট্রি কাবিননামা মূলে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। ওই বিয়ের কাবিননামায় অধিকতর টাকা দেনমোহর ধার্য করার কারণে স্বামী সোহেল রানা তার স্ত্রী সীমা বেগম ও তার শ্বশুর আব্দুল খালেকের নিকট বিয়ের পর থেকেই দশ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে এবং টাকা না পেলে সীমাকে শান্তিতে থাকতে দেবেনা বলে হুমকি দেয়। আর স্বামীর দাবীকৃত যৌতুকের ১০ লাখ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্ত্রী সীমাকে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজন বিয়ের পর থেকেই দিনের পর দিন নানাভাবে নির্যাতন করে। এরই একপর্যায়ে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ীর লোকজন সীমা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী সোহেল রানার ঘরের ধর্ণার সাথে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। আর এ ঘটনা জানাজানির পর থেকে সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। পরদিন সকালে এলাকাবাসী এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা জেনে পুলিশকে খবর দেয়। পরদিন শনিবার দুপুরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন।
সাপধরী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহা আলম মন্ডল জানান, সোহেল রানা তার স্ত্রী ও শ্বশুরের নিকট দশ লাখা টাকা যৌতুক দাবী করে সীমার উপর অমানুষিক নির্যাতন করেছে বলে সীমার বাবা ইতিপূর্বে তাকে কয়েকদফা জানিয়েছেন। এছাড়াও সোহেল রানা সীমাকে বিয়ে করার পূর্বে আরও তিনটি বিয়ে করে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবী করে যৌতুক না পেয়ে পূর্বের তিনটি স্ত্রীকেই তাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি এলাকাবাসীর কাছে শুনেছেন।
ইসলামপুর থানার ওসি দীন-ই-আলম জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্টের পর হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।