| |

র‌্যাবের অভিযানে শেরপুরের জঙ্গলদি থেকে অপহরণকারী চক্রের ০২ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুর জেলার জঙ্গলদি গ্রাম থেকে অপহরণকারী চক্রের ০২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪। র‌্যাব এর একটি আভিযানিক দল ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোর সোয় পাঁচটায় শেরপুরের জঙ্গলদি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণকারীদের বসত বাড়ীর ভিতর পৌঁছাইলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল হইতে অপহরণকারীরা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিলে অপহরণকারী আরিফুল ইসলাম (২২) ও মোঃ মিলন মিয়া (২০) উভয় পিতা- মোঃ জুলফিকার, সাং-জঙ্গলদি দক্ষিণ পাড়া, থানা-শেরপুর সদর, জেলা-শেরপুরদ্বয়কে গ্রেফতার করতে সম হয়।
উল্লেখ্য গত ২৪ ফেব্র“য়ারি ভিক্টিমের চাচা মোঃ সোহরাব অপহরণ সংক্রান্তে অধিনায়ক র‌্যাব-১৪, ময়মনসিংহ বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৪, ময়মনসিংহের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রকার তথ্য সংগ্রহ করে। র‌্যাব কর্তৃক সংগৃহিত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় অপহরণকারীদের বাড়ী শেরপুর সদর থানাধীন জঙ্গলদি গ্রামের বাড়ি হইতে তাদের গ্রেফতার করে। এছাড়া আরেক অপহরণকারী সু-কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনাস্থল হইতে র‌্যাব-১৪ আভিযানিক দলটি ভিক্টিম- মোঃ মিলন (১৭), পিতা-মোঃ জলিল, মাতা-মোছাঃ হাফসা, সাং- ঘটবাড়িয়া, থানা- বরগুনা সদর, জেলা- বরগুনাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, ভিক্টিমের চাচা ও ভিক্টিম বর্তমান ঠিকানা শম্ভুগঞ্জে বাংলালিংক টাওয়ারের সিভিল কাজ করে। কাজের সুবাদে অপহরণকারীদের সাথে তাদের পূর্ব পরিচয় ছিলো। কাজ চলাকালীন অপহরণকারীদের সাথে ভিক্টিমের চাচার টাকা পয়সা লেনদেন এর বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। মনোমালিন্যের জের ধরিয়া গত ২২ ফেব্র“য়ারি দুপুর ২টায় ভিক্টিম- মোঃ মিলনকে ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানাধীন শম্ভুগঞ্জ মোড়স্থ জনৈক মোঃ হযরত আলীর সাউন্ড সিস্টেম এর দোকানের সামনে থেকে একটি সিএনজি যোগে তিন জন লোক এসে জোরপূর্বক টানা হেচড়া করে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিক্টিমের চাচা মোঃ সোহরাব ভিক্টিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে কল দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। এরপর একই তারিখ রাত অনুমান ২২.২৫ ঘটিকার সময় একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর হইতে ভিক্টিমের চাচার মোবাইল নম্বরে ফোন করিয়া বলে- “তোর ভাতিজাকে আমরা অপহরন করে নিয়ে এসেছি। যদি তাকে জীবিত দেখতে চাস তাহলে মুক্তিপণ ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা দিতে হবে”। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা স্বীকার করে যে, দুই লক্ষ টাকা পাওয়ার জন্য তারা অপহরণ করেছে। এই সমস্ত অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে র‌্যাব-১৪ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।