| |

১২ বছরেও এস আই গৌতম রায় হত্যাকন্ডের বিচার পায়নি তার পরিবার!

তিলক রায় টুলু পূর্বধলা প্রতিনিধিঃ ছিলেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এস আই ),জীবিত অবস্থায় তদন্ত করেছেন অনেক মামলার রহস্য উদঘাটন করে পুরস্কারও পেয়েছেন। সেই মানুষটিকে দায়িত্বরত অবস্থায় হত্যা করে পালিয়ে যায় খুনিরা। তিনি আজ সংবাদের শিরোনাম তার হত্যাকান্ডের ১২ বছর পার হলেও বিচারের আশায় তার পরিবার আজ ক্লান্ত।

আজ ১৯ এপ্রিল বংশাল থানার অপারেশন অফিসার এস আই গৌতম রায়ের ১২ তম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি পেশাগত দায়িত্ব শেষে রাতে ওয়ারীর বাসায় ফেরার সময় সুত্রাপুর থানার লাল মোহন সাহা স্ট্রিট এলাকায় একদল চিহিৃত সন্ত্রাসী অত্যান্ত সুপরিকল্পিত ভাবে তাকে গুলি করে পালিযে যায় পরে রাতেই ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

পরদিন তৎকালিন স্বরাস্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজিপি নব বিক্রম ত্রিপুরা, ব্যাবের ডিজি হাছান মাহামুদ খন্দকার ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগন ছুটে যান। এ সময় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আশ্বাসও দেন । পরে এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর পর পুলিশ ও র‌্যাবের মধ্যে আসামী ধরা নিয়ে চলে নাটক। হত্যাকান্ডটি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃস্টি হয়। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসাবে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকান্ডের দীর্ঘসুত্রতা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা তুলে ধরেন তার ছোট ভাই সাংবাদিক তিলক রায় টুলু তিনি বলেন এ হত্যাকান্ডটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মামলার চার্জশিট দেওয়া হলেও যে পিস্তল দিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে সেই পিস্তলটি আজও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। আসল অপরাধি চক্রকেও চিহিৃত করতে পারেনি পুলিশ। গৌতম রায়ের হত্যাকান্ডটি সুপরিকল্পিত দাবী করে তার পরিবার বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে কি কারনে কেন কারা কি উদ্দেশ্যে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তাদের খুজে বের করে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করে আসছিলো। মামলা সম্পর্কে তিনি জানান যতটুকু শুনে ছিলাম এ মামলায় কয়েকজন কে আটক করা হয়েছিল তবে তারা সবাই জামিনে আছে। এখন আর মামলার অগ্রগতী সর্ম্পকে কিছুই জানিনা। এ মামলার বিচারের আশায় থাকতে থাকতে আমার বাবা ও মা গত হয়েছেন।

উল্লেখ্য এস আই গৌতম রায়ের বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে। সে শ্যামগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বগীয় ইন্দু ভূষন রায় ও স্বগীয়া বকুল রানী রায়ের প্রথম সন্তান।

গৌতম রায় গৌরীপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পূর্বধলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও ভোরের কাগজ পত্রিকার পূর্বধলা প্রতিনিধি ছিলেন।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার গ্রামের বাড়ী শ্যামগঞ্জে গীতাপাঠ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।