| |

ময়মনসিংহে সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেয়ার নামে দুই প্রতারক ডিবির হাতে গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আদায়সহ চাকুরী প্রার্থীকে আটক রাখার ঘটনায় দুই প্রতার গ্রেফতার হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, ময়মনসিংহ সদরের গনেশ্যামপুরের (মনতলা) মোঃ আইনুদ্দিন ও মুক্তাগাছার গোয়ারির দেলোয়ার হোসেন। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা নং-৪৮, তাং ১২/০৫/২০২২ দায়ের হয়েছে।
ডিবির ওসি সফিকুল ইসলাম জানান, গত ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরী প্রার্থী সোহেল মিয়া সৈনিক পদে চাকুরীর জন্য টাংগাইল ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট প্রাথমিক বাছাই পরীায় অংশ গ্রহন করে অপেমান তালিকাভুক্ত হয়। এ খবর জানতে পেরে প্রতারক মোঃ আইনুদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন চাকুরী প্রার্থী সোহেলের মোবাইল নাম্বারে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে ফোন করে সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে তাকে চাকরি পাইয়ে দিবে বলে ময়মনসিংহে এসে তাদের সাথে কথা বলতে বলে। প্রতারক মোঃ আইনুদ্দিন নিজেকে সেনা সদস্য এবং দেলোয়ার হোসেন নিজেকে আর্মি অফিসার হিসেবে পরিচয় দেয়।
সোহেলের চাকুরী খুব প্রয়োজন থাকায় গত গত ২৩ এপ্রিল প্রতারকদের সাথে কথা বলার জন্য সে তার মামা জনি মিয়াকে সাথে দিয়ে ময়মনসিংহে আসেন।
সোহেল মিয়ার চাকুরীর জন্য প্রতারকদ্বয় ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে চাকুরি পাইয়ে দেবার কথা চূড়ান্ত করে। শর্তানুযায়ী ঐ দিন ( ২৩ এপ্রিল) ময়মনসিংহ সদরের গনেশ্যামপুর (মনতলা বাজার) বিল্লাল হোসেনের মনোহরী দোকানের ভিতরে প্রতারকদ্বয়কে নগদ ২ লাখ টাকা এবং চাকুরী সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করে। এ সময় প্রতারকরা চাকুরী প্রার্থী সোহেলের কাছ থেকে কৌশলে মূল সার্টিফিকেট ও চাকুরী সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেখে দেয়। প্রতারকদের শর্ত অনুযায়ী গত ১১ মে,২০২২
অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সোহেল পুরোপুরি টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে জমি বিক্রির ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে সোহেল মিয়া তার সঙ্গীয় জলিল মিয়াকে সাথে নিয়ে ময়মনসিংহে আসেন। এদিকে প্রতারকদের সাথে সোহেল যোগাযোগ করলে প্রতারক মোঃ আইনুদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন তাদেরকে ফোন করে পূর্বের জায়গায় চলে যেতে বলে। প্রতারকদের ফোন পেয়ে সোহেল তার পিতা মঞ্জুল হক ও সংগীয় জলিল মিয়াকে নিয়ে ময়মনসিংহ সদরের গনেশ্যামপুর (মনতলা বাজার) বিল্লাল হোসেনের মনোহরী দোকানের সামনে যান। এ সময় প্রতারকদ্বয় তাদেরকে ডেকে দোকানের ভিতরে নিয়ে বসায়। এ সময় তাদের সাথে নিয়ে আসা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রতারক দেলোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেয়। প্রতারক দেলোয়ার নিজে এক লাখ টাকা নেয় এবং আইনুদ্দিনকে ১ লাখ ২০ হাজার দেয়। পরবর্তীতে আকস্মিকভাবে প্রতারকদ্বয় চাকুরী প্রার্থী সোহেলের পিতা ও সোহেলকে দোকানের অভ্যন্তরে অবরুদ্ধ করে আরো ৫ লাখ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা দিতে না পারলে তাদের কাছে থাকা সোহেলের মূল সার্টিফিকেট ও চাকুরী সংক্রান্ত কাগজপত্র নষ্ট করে দিবে বলে হুমকি
দেয়। ডিবি পুলিশ এ খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আহমার উজ্জামানের নির্দেশে ১১ মে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতারকদেরকে আটক এবং চাকুরী প্রার্থী ও তার পিতা মঞ্জুল হককে উদ্ধার করে। এ সময় ডিবি পুলিশ প্রতারকদের কাছ থেকে চাকুরী প্রার্থীর কাছে থেকে নেয়া ২ লাখ টাকা ও প্রার্থীর সার্টিফিকেটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সোহেলের পিতা মঞ্জুল হক কোতোয়ালী মডেল থানর মামলা নং-৪৮, তারিখ-১২/০৫/২০২২ দায়ের করে। ডিবির ওসি জানান, ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে প্রতারকদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।