| |

গজনী পর্যটন কেন্দ্রে পানি বিক্রেতা নারী শ্রমিকদের দূর্দিন

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশে পানি বিক্রেতা শতাধিক নারী শ্রমিকের এখন চরম দূর্দিন চলছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এসব নারী শ্রমিকের বসবাস। এসব নারী শ্রমিকদের কেউ বিধবা, কেউ স্বামী পরিত্যাক্তা আবার কারো কারো স্বামী অসুস্থ। সহায়-সম্বলহীন ওই নারী শ্রমিকরা গজনী পর্যটন কেন্দ্রে আগত পর্যটকদের কাছে পানি বিক্রি করে পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। পর্যটক বাসের অপেক্ষায় এসব নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ ফি আদায় ঘর উপজেলা পরিষদের সামনে, নওকুচি বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে এবং গজনী অবকাশ কেন্দ্রের প্রবেশ পথে কলস হাতে বসে থাকে। পর্যটক গাড়ি আসলেই ওই গাড়িতে উঠে তারা পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করে। সেখানে পর্যটকদের রান্না-বান্নার কাজ থেকে শুরু করে খাবার পানির ব্যবস্থা করে দেয় পানি বিক্রেতা নারী শ্রমিকরা। হাড়ভাঙ্গা খাটুনী খেটে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তাদের সংসার। যেদিন অবকাশ কেন্দ্রে পর্যটন গাড়ী না আসে সেদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকতে হয় তাদের অনাহারে-অর্ধাহারে। এসব নারী শ্রমিকদের কারো মাথা গুজার ঠায় থাকলেও অনেকেরই তা নেই। পানি বিক্রেতা বন্দভাটপাড়া গ্রামের জরিনা, আমিলা, ভালুকা গ্রামের খোদেজা, রুজিনা, মোমেনা, গোলাপী, সুফিয়াসহ আরো কয়েকজন পানি বিক্রেতার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সরকারীভাবে এরা পায় না কোন সাহায্য-সহযোগীতা। বর্তমানে এসব নারী শ্রমিকদের অভাব-অনটন দুঃখ আর দুর্দশা যেন তাদের নিত্য সাথী। ইউএনও মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, পানি বিক্রেতা অসহায় নারী শ্রমিকদের বিধবা ও বয়স্ক ভাতা প্রদানসহ তাদের একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের আওতায় এনে ঋন প্রদানের মাধ্যমে তাদের সাবলম্বী করা সম্ভব।