| |

ডেইলী স্টারের প্রতি হুমকি নতুন করে গণমাধ্যমে ভীতি সঞ্চারের অপপ্রয়াস

সংবাদপত্র ও সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানের প্রতি সরকার ও সংসদের আক্রমনাত্মক ভ’মিকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদকি ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) নেতারা। বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম প্রধান এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিক সমাজ গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে বহুল প্রচারিত ইংরেজী দৈনিক ডেইলী স্টার বন্ধ ও এর সম্পাদককে গ্রেফতারের হুমকি আসছে সরকারের ক্ষমতাকেন্দ্রের ঘনিষ্ট পর্যায় থেকে। জাতীয় সংসদের কতিপয় সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তর থেকে একই ধরনের অগণতান্ত্রিক দাবী ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আবার পত্রিকাটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে কয়েকটি স্থানে হয়রানিমূলক মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রায় এক দশক আগের একটি বিতর্কিত বিষয়কে সামনে এনে সংবাদপত্র ও সম্পাদককে গ্রেফতারের দাবী ও হুমকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নতুন করে গণমাধ্যমে ভীতি সঞ্চারের অপপ্রয়াস বলে আমরা মনে করি। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, এমনিতেই ক্ষমতাসীন সরকারের দলন-দমনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্নপ্রায়। আমার দেশ এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অন্যায়ভাবে তিন বছর ধরে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। সব মামলায় জামিন হওয়ার পরও তাকে মুক্তি না দিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজের নির্বাচিত সভাপতি শওকত মাহমুদকে বানোয়াট মামলায় কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে ছয় মাস ধরে। কোন আইনী প্রক্রিয়া ছাড়াই গায়ের জোরে আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশন ও ইসলামিক টেলিভিশন বন্ধ করে হাজারো সাংবাদিককে দুর্বিষহ বেকারত্বে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সাগর-রুনীসহ ২৭জন সাংবাদিক খুনের বিচার পাচ্ছেনা সাংবাদিক সমাজ। তার ওপর নতুন করে ডেইলী স্টার বন্ধ ও সম্পাদককে গ্রেফতারের হুমকি সরকারের মুক্তগণমাধ্যম পরিপন্থী মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ ঘটাচ্ছে।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, এমনিতেই আমাদের পূর্বসূরী বিশাল মহীরুহ মনীষী সম্পাদকরা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর চাবুক হেনে যেভাবে ইতিহাসের গতিধারা বদলে দিয়েছিলেন আজ সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানের সেই বলিষ্ঠ ভ’মিকা ও উচ্চমার্গীয় গ্রহণযোগ্যতায় ছেদ পড়েছে। স্বাধীন সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া সাংবাদিকতাকে পেশাদারিত্বের বৃত্তে ধরে রাখা যে অসম্ভব তা অনুধাবন করার সময় এসেছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গণমাধ্যমের প্রতি সব ধরণের আক্রমনাত্মক মনোভাব পরিহার করে বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া এবং মাহমুদুর রহমান, শওকত মাহমুদসহ সব সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের মুক্তি দাবী করেন।