| |

ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল আয়নাক্ষেত গ্রামের সংখ্যালঘু এক হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল আয়নাক্ষেত গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবার কে ভিটে মাটি ছাড়া করতে চায় একই গ্রামের সম্পত্তি লোভী কফিল উদ্দিন শেখ ও তার সাঙ্গপাঙ্গারা। বংশ পরমপরায় মৃনাল মিত্র, পিতা অমৃত সুন্দুর মিত্র তার বৃদ্ধ মাতা ও দু’সন্তান সহ প্রায় ৭ পুুরুষ ধরে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছে এই গ্রামের নিজ ভিটা মাটিতেই। কিন্তু তার এ সুখ চোখের বালি হয়ে দেখা দেয় তারই বড় দুই সহোদর ও পরশি কফিল উদ্দিন শেখের কাছে। সামাজিক ভাবে মৃনাল মিত্রের সাথে যখন কোন ভাবেই পেরে উঠতে পারছিল না কফিল শেখ, তখন কৌশলে মৃনাল মিত্রের দু’বড় ভাইকে হাত করে তাকে ভিটে মাটি ছাড়া করে দেশান্তরিত করতে চাচ্ছে। এই উচ্ছেদ আতংকে মৃনাল মিত্র এবং তার পরিবার দিশেহারা অবস্থায় আছেন।
প্রাপ্ত এক অীভযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, চলতি বোরো মওসুমে মৃনাল মিত্র তার প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে চাষাদবাদ করতে পারছেন না তার দু ভাই ও কফিল শেখের কারণে। মৃণাল মিত্র তার পৈতৃক সম্পত্তিতে চাষাবাদ করতে গেলে কফিল উদ্দিন তার সাঙ্গপাঙ্গসহ জমিতে উপস্থিত হয়ে মৃণালকে প্রাণ নাশের ভয় দেখালে মৃণাল ভয়ে চাষাবাদ ফেলে বাড়ীতে চলে যায়। অভিযোগে আরও প্রকাশ, কফিল উদ্দিন শেখ উক্ত জমির সেচ দানকারী কাঠাল গ্রামের শাহীনকে জমিতে সেচ দিতে বারণ করে। দুষ্ট চরিত্রের শাহীন কফিল উদ্দিন শেখের পাল্লায় পরে সেও মৃনাল মিত্রের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগে যায়। কফিল উদ্দিন শেখ সৃনালের দু’ভাইকে হাত করে তার কাঁঠাল বাজারের দোকান পাট দখল করে নিতে চায় এবং তাকে নানাভাবে হেনস্তা করে কফিল শেখের লোকজন। তারা দোকানের কোন উন্নয়নের কাজ করতে দিচ্ছে না। মৃনাল মিত্র এব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছিলেন যাতে তার ভাই ও পড়শি কফিল উদ্দিন শেখের সাথে কোন বিরোধ না থাকে। কিন্তু ইউ.পি চেয়ারম্যান তার কোন প্রতিকার করার চেষ্টা করেননি। অবশেষে মৃনাল মিত্র গত ০৩/০২/২০১৬ ইং তারিখে কফিল শেখ ও তার আপন দু’বড় ভাই শ্যামল মিত্র ও নির্মল মিত্রের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানায় জি.ডি (নং-১২০) করতে বাধ্য হয়। এতে কফিল উদ্দিন ও তার ভাইদের আক্রোশের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তারা মৃনাল মিত্রের পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে, বাড়ীতে এসে মৃনালকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লোকমূখে প্রচার করে বেড়ায় যে তারা যে কোন মূল্যে মৃনাল মিত্রকে ভিটে মাটি ছাড়া করবেই। কফিল উদ্দিন শেখের ও তার ভাইদের ভয়ে মৃনাল মিত্রের পরিবার প্রায় একঘরে অবস্থায়। তারা কারো সাথে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারছেনা, কারো সাথে মিশতে পারছেনা। তার ছোট বাচ্চাদের পড়শি বাচ্চাদের সাথে পর্যন্ত খেলা করতে দিচ্ছে না। এলাকা ঘুরে আরো জানাযায়, মৃনাল মিত্র একজন সৎ, আদর্শবান ও ন্যায় পরায়ণ ব্যক্তি। কঠোর পরিশ্রমী ও উদ্যমী মৃনাল মিত্র ২০০৭ সাল হতে অমৃত প্রভাসিনী সংঙ্গীত বিদ্যালয় নামের সংঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। তার বিদ্যালয়ে বিনা বেতনে সংঙ্গীত শিখছেন ৪০ জন শিক্ষার্থী।
এমন একজন সংঙ্গীতপ্রিয়, সুন্দর মনের মানুষের পেছনে তার আপন দু বড় ভাই ও কফিল উদ্দিন শেখ বেপরোয়া হয়ে লেগেছেন সম্পত্তির লোভে। কৌশলে বড় দু ভাইয়ের সম্পত্তি বিক্রি করে সম্পত্তিলোভী কফিল উদ্দিন শেখ এখন প্রচুর টাকার মালিক। দেনার দায়ে জর্জরিত সহায়সম্বল হারা বড় দু ভাই এখন চায় ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে। এই জন্যই তারা কফিল উদ্দিন শেখের সাথে হাত মিলিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে প্রশাসন এ বিষয়ে দৃষ্টি না দিলে দাঙ্গাবাজ, কলহপ্রিয় কফিল শেখ যে কোন সময়ে যে কোন গুরুতর কান্ড ঘটিয়ে ফেলতে পারে।