| |

ধর্মপাশার বংশীকুন্ডা কলেজের শিক্ষা সফর ২০১৬ অমর একুশে বই মেলা ঘুরে এলেন ৬৮জন শিক্ষার্থী!

ধর্মপাশা প্রতিনিধি : বই হোক জ্ঞানার্জনের অন্যতম মাধ্যম’ বই হোক উন্নত জীবন গঠনের একমাত্র সঙ্গী ‘বই মেলা চাই সারা বাংলায়’ এসব নানা শ্রুতি মধুর শ্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হাওর এলাকার বংশীকুন্ডা কলেজের ৬৮জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নয়জন শিক্ষক গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কলেজের পক্ষ থেকে শিক্ষা সফর উপলক্ষ্যে অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় উপস্থিত হন। জীবনের প্রথমবার অমর একুশে বই মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে নুতন পুরনো বই কিনে,নবীন ও প্রবীন লেখকদের দেখা পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁরা বাড়ি পৌছেছেন।
বংশীকুন্ডা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হাওর এলাকায় বংশীকুন্ডা কলেজটি ২০১৩সালের ৭অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এবারই প্রথমবারের মতো এই কলেজ থেকে মানবিক শাখায় ৬০জন ও ব্যবসা শিক্ষা থেকে ৮জন শিক্ষার্থী আসন্ন এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছে। জ্ঞানার্জনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই ও এটি সুন্দর জীবন গঠনের অন্যতম মাধ্যম এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বংশীকুন্ডা কলেজের পক্ষ থেকে এ শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টায় শিক্ষা সফর উপলক্ষ্যে বই মেলাতে রওয়ানা দেওয়ার জন্য কলেজ চত্বরে উপস্থিত হন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে মোটর সাইকেল যোগে দূর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় ৩৫কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে উপজেলা সদরে আসা ও পরে বাস যোগে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তাঁরা অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় গিয়ে উপস্থিত হন। বই মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে নবীন ও প্রবীন লেখকদের কবিতা ও গল্প,প্রবন্ধ,উপন্যাস সহ নানান ধরনের বই কেনেন শিক্ষার্থীরা। বই মেলা ঘুরে রাত নয়টায় ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতি ধামাইল ও জারি গান প্রদর্শন করেন। গতকাল শনিবার দুপুরে তাঁরা বাড়ি পৌছেছেন ।
বংশীকুন্ডা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মল্লিকা বিশ্বাস,আবিদা সুলতানা,শহীদুল ইসলাম,তাপস সরকার,সৈকত রায় ও আজিজুল ইসলাম জানান, শিক্ষা সফর উপলক্ষ্যে অমর একুশে বই মেলাতে যেতে পেরে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি আমরা খুবই আনন্দ উপভোগ করেছি। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গিয়ে বই মেলা ঘুরে নবীন-প্রবীন লেখক ও কবিদের দেখা পেয়ে সেখানে পৌছতে যে কষ্ট হয়েছে তা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে। এই শিক্ষা সফরটি আমাদের জীবনে এক অন্যরকম স্মৃতি হয়ে থাকবে।
ধর্মপাশা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি আনিসুল হক বলেন,হাওরাঞ্চলের এই প্রত্যন্ত এলাকা থেকে একযোগে বই মেলাতে ৬৮জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতির খবরটি জেনে আমি খুবই আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও বিনোদনের জন্য দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বংশীকুন্ডা কলেজের অধ্যক্ষ নূরুল আমিন বলেন, বই মানুষের পরম বন্ধু,জ্ঞানার্জনের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। কলেজের পক্ষ থেকে অমর একুশের গ্রন্থ মেলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফরের আয়োজন করায় তাঁরা খুবই আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরণের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা সর্বরকম চেষ্ঠা করব ।