| |

ভালুকায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের নামে বনের মামলা

ভালুকা প্রতিনিধি : রোপিত চারা তুলে ফেলার প্রতিবাদ করায় বন মামলার আসামী হতে হলো এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে। ঘটনাটি ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁও কামারিয়া বড়চালা পূর্বপাড়া গ্রামের।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁও কামারিয়া বড়চালা পূর্বপাড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদের ভোগদখলীয় কাদিগড় মৌজার ১২৩৩ দাগের জমিতে অংশীদারিত্বমূলক বাগান সৃজন করে স্থানীয় বনবিভাগ। পরে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী সাহেরা খাতুনের নামে সেই বাগান বরাদ্ধ দেওয়া হয় এবং বাগান বরাদ্ধ পাওয়ার পর উপকারভোগী হিসাবে হিস্যামতে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদের স্ত্রী সাহেরা খাতুন পরপর দুই দফায় বাগানের লভ্যাংশ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আবারো সেই জমিতে চারা লাগায় স্থানীয় বনবিভাগ। কিন্তু একই গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র কামরুল ইসলাম কাদিগড় বিট কর্মকর্তার যোগসাজসে সেই বাগানের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিমান ভ’মি জবরদখল করে নেয় এবং বনবিভাগের রোপিত চারা উত্তোলন করে ফেলে দিয়ে তাতে লাউয়ের চাষ করে। সে সময় সাহেরা খাতুনের ছেলে সাদেক সেই ঘটনার প্রতিবাদ করে এবং বিষয়টি স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে জানায়। ওই ঘটনায় ক্ষিপ্ত বিট কর্মকর্তা আবু তাহের হয়রানীর উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সাদেককে একটি বনের মামলায় জড়িয়ে দেয়।
সাহেরা খাতুন জানান, সিরাজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল বিট কর্মকর্তার সাথে যোগসাজসে আমার নামীয় প্লটের প্রায় ৪০শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় বিট কর্মকর্তা আমার ছেলেকে একটি মিথ্যা বন মামলার আসামী করে হয়রানী করছে। অপরদিকে, স্থানীয় হেলাল উদ্দিন ও খোরশেদ মাস্টার জানান, তারা আনেক দিন যাবৎ কাদিগড় মৌজার ১২৩১দাগের বেশকিছু পরিমান জমি ভোগ দখলে ছিলেন। পরে স্থানীয় বন বিভাগ ওই জমিতে অংশীদারিত্বমূলক বন সৃজন করে এবং পরপর দুই দফা তারা দুইবার সেই বনের উপকার ভোগ করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে আবারো চারা লাগায় বন বিভাগ। এদিকে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়য়ে বন বিভাগ তাদের পার্টিসিমেন্ট বাতিল না করে সেই জমি একই গ্রামের কামরুলবে বুঝিয়ে দেয়।
এসব বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় বিট কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, তার রিরুদ্ধে আনীত সকল অভিয়োগই ভিত্তিহীন এবং মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সাদেক বন ধ্বংসের সাথে জড়িত। বনের গাছ কাটায় তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই হয়রানীর উদ্দেশ্যে নয়।