| |

নেত্রকোনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী পলাতক ‘মাসুম’ পর্নগ্রাফী মামলায় জেলহাজতে

সৌমিন খেলন : নেত্রকোনায় পর্নগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার আসামী আমনিুল ইসলাম মাসুম’র (৩৫) জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (১ মার্চ) বিকালে নেত্রকোনা অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আলমগীর কবির শিপন আসামীকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় পলাতক ওই আসামী আজ দুপুরের দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিজের জামিন প্রার্থনা করেন এবং বিচারক তা নাকচ করে দিয়ে আসামীকে জেলহাজতে পাঠনোর নির্দেশ দেন। এদিকে মামলা ও নেত্রকোনা মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহনূর এ আলম স্বদেশ সংবাদকে জানান, আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা বাজারের মাসুম’র ‘নিলা ডিজিটাল মডেলিং স্টুডিও’ থেকে কিছু অশ্লীল ভিডিওসহ আসামীর ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ করা হয়। মাসুম ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হাসেমের ছেলে। পরে এব্যপারে নেত্রকোনা মডেল থানায় রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল আমিন পর্নগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে জব্দকৃত ভিডিওর একটিতে আসামী মাসুম অজ্ঞাত পরিচয়ের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে ও অপর ভিডিওতে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মাসুম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্টুডিও ব্যবসার আড়ালে গ্রামের স্কুল পড়–য়া কিশোরীদের কৌশলে জিম্মি করে যৌন নিপীড়ন, হয়রানীসহ কিশোরীদের ধর্ষণ করে ভিডিও তৈরী করে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে আসছিলো। যা একসময় এলাকাবাসী মুরুব্বিদের মধ্যে জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চ্যলের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী মাসুমকে ধরতে তার স্টুডিওতে ধাওয়া করলে পালিয়ে যায় সে। এরপর বিভিন্ন সময় মাসুমের বিচার চেয়ে এলাকায় মানববন্ধন, ঝাড়– মিছিলসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করে একপর্যায়ে নিলা ডিজিটাল স্টুডিওটি ভাঙচুর করে এলাকাবাসী। এমনকি মাসুমের বিচার চেয়ে তাকে গ্রেফতারের দাবিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. তরুণ কান্তি শিকদার, পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী’র হাতে স্মারকলিপি তোলে দেন গ্রামবাসী। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নেত্রকোনা জেলা শাখার সাধাররণ সম্পাদক তাহেজা বেগম’র নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা গ্রাম পরিদর্শন করে ধর্ষিতা ও শ্লীলতাহানীর শিকার হওয়া কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে একাত্মতা পোষণ করেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. রহুল আমীন, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, জেলা অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ইউপি মেম্বার সিদ্দিকুর রহমান, গণি মিয়া, মঈন উদ্দিনসহ গ্রামবাসী সকলের মতে মাসুম গ্রামে একের পর এক মেয়েকে এভাবে ধর্ষণ করেছে যা কেউ কোনোদিন মানহানী ও মাসুমের হুমকির ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। গ্রামবাসী এও জানান, মাসুম তার অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এধরনের ঘৃন্য অপরাধের জন্য মাসুমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।