| |

কালিহাতীর ঘটনায় ইন্ধন ছিল : ভারপ্রাপ্ত আইজিপি

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : টাঙ্গাইলের কালিহাতীর ঘটনায় ইন্ধন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান।
গতকাল রোববার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
কালিহাতীর ঘটনায় কার ইন্ধন ছিল—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক বলেন, বিষয়টি তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
কালিহাতীর ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মোখলেসুর রহমান বলেন, ঘটনার (মা-ছেলেকে নির্যাতন) পরপরই পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে। কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তারও করেছে। এর পরও সেখানে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। এতে হাজারো যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তারা একপর্যায়ে থানায় হামলা চালানোরও চেষ্টা করেছে।
মোখলেসুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এ ঘটনায় পুলিশের সাত সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মা-ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে কালিহাতী ও ঘাটাইলের মানুষ গত শুক্রবার কালিহাতী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে তিনজন নিহত হন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
ওই ঘটনায় গত শনিবার পুলিশের সাত সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
বিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের তৎপরতা না থাকলে এ রকম অনেক ঘটনা ঘটত।
মহাসড়কে গরুর ট্রাক থেকে পুলিশের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান মোখলেসুর রহমান।
তিন বলেন, দু’একজন পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে কলঙ্কিত করা যাবে না। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিষয়ে চাঁদা নেওয়ার নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাময়িক বরখাস্ত ছাড়াও বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
পুলিশের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নজরদারি করতে ইন্টেলিজেন্স ও ফিল্ড কমান্ডাররা নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এম অ্যান্ড পিআর) মো. নজরুল ইসলাম ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।