| |

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেজে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার অভিযোগ

গফরগাঁও মানসুর আহম্মেদ ঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভূয়া ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সেজে প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সব হয়রানি থেকে পরিত্রানের জন্য গতকাল সোমবার সকালে স্থানীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন ভূক্তভোগী উপজেলার ছিপান গ্রামের হাজী আব্দুল মান্নান।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য থেকে জানা গেছে, উপজেলার ছিপান গ্রামের হাজী আব্দুল মান্নানের সাথে তার ভাই মৃত আব্দুল হেকিমের ওয়ারিশগণের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ও ক্রয়কৃত জমির বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিযন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে একাধিক শালিস দরবার হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের শালিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতি ও সম্মতিতে এ বিরোধের নিস্পত্তি করে বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বাদী হাজী আব্দুল মান্নান শালিসের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও বিবাদী আবু সাইদ, জজ মিয়া, মরিয়ম সিদ্দিকা, মাজেদা খাতুন গং পরে শালিসের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে পেশীশক্তি ব্যবহার করে শালিসে মিমাংসাকৃত জমির পুণরায় বেদখল করতে যায়। হাজী আব্দুল মান্নানের লোকজন বাঁধা দিলে বিবাদী পক্ষ বাদীপক্ষের লোকজনকে জমিটি ছেড়ে দিতে বলছে, না ছাড়লে প্রাণনাশসহ নানা ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে।
হাজী আব্দুল মান্নান সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট ছেলে মাকসুদুল আলম পুলিশ বিভাগে পরিদর্শক পদে কর্মরত। তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিবাদী পক্ষের লোকজন ভূয়া ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সেজে সাংবাদিক সম্মেলনসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এ ব্যপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ সেলিম বলেন, এ ঘটনায় বিবাদী জজ মিয়া, জেসমিন আক্তার, মরিয়ম সিদ্দিকার পিতা ছিপান গ্রামের মৃত আঃ হেকিম কোনদিনই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড এবং সরকারের অন্যান্য তালিকায় মৃত আঃ হেকিমের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভূক্ত নয়। এ ঘটনায় অনৈতিক ফায়দা নিতে তারা ভূয়া ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ সেজেছে।